ঈদ মোবারক ঃ কেমন ছিল পুরানো সেই ঈদগুলো – জানুন বিস্তারিত
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি,
ঈদের দিনে ঘুরব শুধু, সালামী পাব বেশী!
রঙিন কাপড় পরে মোরা যাব ঈদগাহে,
ধনী-গরীব ভুলে গিয়ে কাঁধ মিলাব একসাথে।
পায়েস খাব, ফিরনী খাব, খাব রস-মালাই,
উৎসবের আমেজে জমবে ঈদ, যদি না থাকে রোগ-বালাই!
ঈদ মোবারক
কবিতার মতই কোন এক সময় ঈদের দিনগুলো ছিল উৎসব – আমেজে পরিপূর্ণ। তখন রোজা শুরু হলেই, শুরু হত ঈদের দিনটির জন্য প্রতিক্ষা। কাঙ্ক্ষিত দিনটি আসার পূর্বেই ঈদ নিয়ে ছোট-বড় সকলের মাঝেই চলত এক মহা পরিকল্পনা। ঈদে এবার কি ধরনের কাপড় কিনবে, কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে, কত সালামী পাবে এসব নিয়ে ছিল নানা পরিকল্পনা। বলাবাহুল্য ঈদ আনন্দ শতগুন বাড়িয়ে দিত বাহারি ডিজাইনের সব ঈদ-কার্ডগুলো, যেখানে লেখা থাকত নানা মজার ছন্দ। যেমন ঃ
“লাচ্ছি খাই, সেমাই খাই, ঈদের দিনে দেখা চাই,
যদি দেখা না পাই, ঈদ কার্ড ফেরত চাই”
আবার,
“নীল আকাশে উরে যায় এক ঝাঁক বক,
তার মাঝে লেখা আছে ঈদ মোবারক”

যদিও কোন এক সময় পাড়ার অলিতে – গলিতে ছোট ছেলে-মেয়েরা দিত ঈদ কার্ডের দোকান, আজ সময়ের ব্যবধানে সেই ছোট্ট ঈদ কার্ডের দোকানগুলো যেন প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন মানুষ ঈদ কার্ডের পরিবর্তে ফেসবুকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। কিন্তু কাগজের সেই ঈদ কার্ডগুলোতে যে কত ভালবাসা, আবেগ, আনন্দ লুকিয়ে ছিল তা এই যুগের ছেলেমেয়েরা কখনই বুঝবে না।
ঈদের দিনের সত্যিকারের আমেজ শুরু হত তখন চাঁদ রাত থেকেই। বিটিভিতে চাঁদ দেখা যাওয়া মাত্রই “রমজানের রোজার শেষে” সেই মধুর গানই যেন বাড়িয়ে দিত ঈদ আনন্দ। তাছাড়া প্রত্যেক ২৯ কিংবা ৩০ রোজায় কোন রকম ইফতারি করেই বাড়ির ছাদে নিজ চোখে ঈদের চাঁদ দেখার জন্য হুরমুরিয়ে উঠতে দেখা যেত সবাইকে। চাঁদ উঠুক কিংবা না উঠুক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছাদ থেকে নিজ চোখে ঈদের চাঁদ খোজার দিনগুলো ছিল সত্যিই অসাধারন। তবে প্রযুক্তির কল্যাণ আর চারদিকে উঁচু উঁচু দালানকোঠা যেন আজ চাঁদ দেখার উৎসবটিকেও মুছে দিয়েছে।